নেপালে বন্যা: এখনো নিখোঁজ ৬০০ শিক্ষার্থী
নেপালে ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যার পর এখনো প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী সন্ধান পাওয়া যায়নি। ভয়াবহ এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলা। ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগব্যবস্থা।
স্থানীয় শিক্ষা উন্নয়ন ও সমন্বয় ইউনিট, স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া জেলায় প্রায় ২৮০ শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। নুয়াকোটে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের মধ্যে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নুয়াকোট শিক্ষা উন্নয়ন ও সমন্বয় ইউনিটের প্রধান সূর্য বাহাদুর খাত্রি জানান, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাইয়ে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। কয়েকজনের সন্ধান মিললেও বিভিন্ন স্কুল থেকে নতুন করে নিখোঁজের তথ্য আসছে।
নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভায়ই প্রায় ২৫০ শিশু নিখোঁজ। স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, কোথাও বাবা-মা বেঁচে থাকলেও সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না; আবার কোথাও বেঁচে যাওয়া শিশুরা নিখোঁজ বাবা-মাকে খুঁজছে।
বন্যায় দুই জেলায় অন্তত ২২ শিক্ষক ও স্কুলকর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন। ধাদিং ও গোরখার কয়েকজন শিক্ষক রাসুয়ার গোসাইকুণ্ড এলাকায় তীর্থযাত্রায় গিয়ে এখনো নিখোঁজ বলে জানা গেছে।
বন্যায় বহু স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। নীলকণ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২০০ জনের এখনো সন্ধান মেলেনি। বিদ্যালয়টির চার কর্মীও নিখোঁজ।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহের বরফ ও পাথর ধসে সৃষ্ট আকস্মিক ঢলে এ বিপর্যয় ঘটে। রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিংসহ নেপালের কয়েকটি এলাকা ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

