ছয় বছর পর সেই মাঠেই হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি
কিছু মাঠ শুধু মাঠ নয়, কিছু জায়গা হয়ে ওঠে স্মৃতির ঠিকানা! তাওহীদ হৃদয়ের কাছে পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্ক তেমনই এক জায়গা। ছয় বছর আগে এই মাঠেই বাংলাদেশের যুব ক্রিকেট লিখেছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়-ভারতকে হারিয়ে জিতেছিল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। সেই দলের সদস্য ছিলেন হৃদয়। সতীর্থদের সঙ্গে বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতেছিলেন তিনি। ছয় বছর পর সেই একই মাঠে ফিরে এবার নিজের ব্যাটে লিখলেন নতুন ইতিহাস-প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তুলে নিলেন ডাবল সেঞ্চুরি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে হৃদয়ের ব্যাট থামেনি ১০০-তে। ২০০ পেরিয়ে তিনি অপরাজিত আছেন ২০৪ রানে। ৩৩৯ বলের ইনিংসে মেরেছেন ২২টি চার ও একটি ছক্কা। আর এই ইনিংসের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য, সংখ্যার বাইরেও, জায়গাটিতে।
কারণ এই সেনওয়েস পার্কেই ২০২০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর উল্লাস করেছিলেন হৃদয়। এবার সেই মাঠেই ২০০ রান পূর্ণ করার পর হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন তিনি। মুখে হাসি, চোখেমুখে তৃপ্তি। যেন ছয় বছর আগের সেই আনন্দের সঙ্গে মিশে গেল নতুন এক অর্জনের উচ্ছ্বাস।
তবে এই ২০০-এর পথটা সহজ ছিল না। বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করার পর বাংলাদেশের চার উইকেট পড়ে যায় মাত্র ১৩৫ রানে। সেখান থেকে জাকের আলীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুরু করেন অধিনায়ক হৃদয়।
পঞ্চম উইকেটে দুজনের জুটি যোগ করে ১৫১ রান। জাকের থামেন ৯৪ রানে। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ছয় রান দূরে থেমে যাওয়া জাকেরের আক্ষেপের বিপরীতে হৃদয়ের গল্প তখনও বাকি। তার পাশে এসে দাঁড়ান সাইফউদ্দিন। শেষ পর্যন্ত তিনিও ৮৭ রানে ফিরে যান। কিন্তু হৃদয় থেকে যান নিজের জায়গায়-অবিচল, অপরাজিত!
১৯৮ থেকে ১৯৯। ডাবল সেঞ্চুরির একেবারে দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন হৃদয়। দ্বিতীয় রানটি নিতে পারলে তখনই পূর্ণ হয়ে যেত ২০০। কিন্তু সেই রানটি আর নেওয়া হয়নি। ফলে অপেক্ষা বাড়ে আরও ১৪ বল।
অবশেষে ১৩৭তম ওভারে স্ট্রাইক ফিরে আসে তার কাছে। প্রথম বলেই কাট। বল ছুটে যায় বাউন্ডারিতে। হৃদয়ের রান তখন ২০৩। হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপন শুরু করেন তিনি। ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার মুহূর্তটা হয়ে ওঠে আরও বিশেষ-কারণ পেছনে ছিল বিশ্বজয়ের স্মৃতি।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সেই অনুভূতির কথাই জানিয়েছেন হৃদয়, ‘আমার লাল বলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু হয়েছিল জন্মস্থান বগুড়া থেকে। আজকে যে মাঠে ২০০ করলাম আল্লাহর রহমতে, এই মাঠেই আমরা বিশ্বজয় করছিলাম ২০২০ সালে। সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’
এই মাঠে আসার আগেও হৃদয় জানিয়েছিলেন, সেনওয়েস পার্কে ফেরাটা তার কাছে সাধারণ কোনো সফর নয়। লিখেছিলেন, ‘এই সেই মাঠ যেখানে রচিত হয়েছিলো বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্বকাপ (২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ) জয়ের ইতিহাস। আবারও সেই মাঠে আসার অনুভূতি কখনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
সেই অনুভূতির উত্তর যেন দিল তার ব্যাট। ছয় বছর আগে যে মাঠে হৃদয়ের উদযাপনের কারণ ছিল বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জয়, এবার সেই মাঠেই কারণ হয়ে দাঁড়াল তার নিজের ২০০।
তবে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরির মাহাত্ম্য শুধু ব্যক্তিগত নয়। তার ২০৪ রানের অপরাজিত ইনিংস বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে এনে দিয়েছে ম্যাচ বাঁচানোর সম্ভাবনা। তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৪৭১ রান করেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রথম ইনিংসের ৫১২ রানের চেয়ে পিছিয়ে আছে ৪১ রানে!

