সুনামগঞ্জে ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার ২ জনের যাবজ্জীবন, ৯ জনের কারাদণ্ড
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকার আলোচিত ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) এর বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ওয়েজখালী গ্রামের গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া এবং সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া। যাবজ্জীবনের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্ত ১১ আসামির মধ্যে চারজনকে ৭ বছর এবং পাঁচজনকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রামিজ আলী, নুরুল মিয়া, খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান। ২ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর মিয়া ও তাহের মিয়া। দণ্ডপ্রাপ্ত এই ৯ আসামির প্রত্যেককেও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন আদালত। তারা হলেন—জাকারিয়া, আব্দুল জহুর, সাজ্জাত আলী, রেনু মিয়া, জুয়েল মিয়া, মো. শফিকুল ইসলাম, খলিল, সুমন, রিপন ও শাহাবুদ্দিন। এছাড়া মামলার চলাকালীন সময়ে শাহের আলী ও পারভেজ মিয়া নামের দুই আসামি মারা যাওয়ায় তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত পটভূমি থেকে জানা যায়, ওয়েজখালী এলাকার খোরশেদ আলম ও আলী হায়দার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই কথা-কাটাকাটি হয়। এর পরদিন ২৯ জুলাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের সকালে গ্রামের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ওয়ারিশ আলী। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ আগস্ট তিনি মারা যান। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ এক যুগ পর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আদালত তার রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা ইতিপূর্বে হাজতবাস করে থাকলে সেই সময়টুকু মূল সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ।
সংবাদটির জন্য কিছু বিকল্প শিরোনাম:
