সিলেটে দুর্ঘটনায় নিহতদের ৫ জনের পরিচয় মিলেছে, চিকিৎসাধীন ১৩ জন
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ দুর্ঘটনায় মোট নয়জন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৩ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় (প্রিয়ম) (২২), দক্ষিণ সুরমা থানার জাহাঙ্গীরের মেয়ে জায়ফা (৪), কিশোরগঞ্জের চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী, কিশোরগঞ্জের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বগডহর এলাকার মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন- ওয়াব (৪৫), মনসুর (৩৪), আতিকুল ইসলাম (৪৮), বাবুল (৪০), মফিজ মিয়া (৫৫), সাজিদ নুর (৪৫), নুরুন্নাহার (৪০), মুক্তার হোসেন (৬৫), জাহাঙ্গীর (২৮), আফজল (৩০), আফরোজা (৩৮), মন্টু (৩০) ও রাজু (৫৫)।
এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, নিহতদের স্বজনরা যদি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বরাবর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণের আবেদন করেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

