শাবিপ্রবিতে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক
সিলেটে চায়ের দোকানের আড্ডায় বসে বন্ধুদের দিয়ে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
শনিবার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চা দোকান থেকে উত্তরপত্রগুলো জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।
জানা গেছে, জব্দ করা খাতাগুলোর পরীক্ষক সিলেটের মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চা দোকানে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ইকবাল হোসেন। এ সময় তার দুই বন্ধুকেও খাতা মূল্যায়নের কাজে অংশ নিতে দেখা যায়। উত্তরপত্রগুলো একটি চালের বস্তায় রাখা ছিল বলে জানান তারা।
খবর পেয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তরপত্রগুলো জব্দ করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে তারা স্থানীয় থানায় যান।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান থানায় আসছেন। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হচ্ছে। পরে আমরা ওই শিক্ষককে তাদের হেফাজতে দিয়ে দিয়েছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রভাষক ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি বলেন, সেখানে কোনো খাতা মূল্যায়ন করা হয়নি। খাতাগুলো আগেই দেখা হয়েছে। মূল্যায়ন করা খাতাগুলো কুরিয়ার করতে নিয়ে যাওয়ার পথে সেখানে বসে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম।
অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শুক্রবার রাতেও একই চা দোকানে বসে ইকবাল হোসেনসহ চারজনকে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা বলেন, “যার খাতা, উনিই শিক্ষক। তিনি আমার বন্ধু ও ব্যাচমেট। আমিসহ কয়েকজন সাবেক সাস্টিয়ান সেখানে ছিলাম। তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এ বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব।”
ঘটনার সত্যতা, উত্তরপত্র মূল্যায়নে অন্যদের সম্পৃক্ততা এবং পরীক্ষার গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

