জৈন্তাপুরে পৈত্রিক জমি উদ্ধারে গিয়ে সংখ্যালঘু নারী আহত
থানায় অভিযোগ
সিলেটের জৈন্তাপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় এক সংখ্যালঘু নারী আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের করগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অমি রানী বিশ্বাস বাদী হয়ে একই দিন জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বড়পুঞ্জি গ্রামের অনিল বিশ্বাসের স্ত্রী অমি রানী বিশ্বাস করগ্রাম মৌজার ৯১ নং জেএল স্থিত ২৮৭ নং খতিয়ানের ৯৩৪ নং দাগের ১৮ শতক জমির পৈত্রিক সূত্রে মালিক ও দখলকার। অভিযোগকারীর দাবি, পার্শ্ববর্তী গ্রামের আব্দুল হক মেম্বারের ছেলে নাছির আহমদ ও রহিম আহমদ দীর্ঘ দিন ধরে উক্ত জমি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
পরবর্তীতে জবরদখলমুক্ত করতে ৪নং দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে বিচার চাওয়া হলে আদালত অমি রানী বিশ্বাসের পক্ষে রায় প্রদান করেন। রায়ের পর তারা বর্গাদারের মাধ্যমে জমির ফসল সংগ্রহ করে আসছিলেন। গত ২৮ জুলাই সাড়ে ১২টার দিকে বর্গাদারকে সাথে নিয়ে ধান কাটতে গেলে বিবাদী নাছির আহমদ ও রহিম আহমদ তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় অমি রানী বিশ্বাস আহত হলে তাকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে অমি রানী বিশ্বাস বলেন, আমাদের পিতা জমিটি কেবল বন্ধক দিয়েছিলেন, কারো কাছে বিক্রি করেননি। কিন্তু বিবাদীরা বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি দেখিয়ে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে জমিটি নিজেদের নামে রেজিষ্টারী করে নিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বিবাদীগণের বড় ভাই ও দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বশির আহমদ বলেন, বিরোধীয় জমিটি প্রায় ৬০ বছর যাবৎ আমাদের দখলে রয়েছে। বাদীর পিতার নিকট থেকে টাকার বিনিময়ে আমার পিতা অনুমতি সাপেক্ষে এর দখল নিয়েছিলেন। অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় আসার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
