কুলাউড়ায় ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তোলপাড়
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিতের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন খাতের ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর কোনো সুরাহা না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিষদের বিক্ষুব্ধ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ইউপি সদস্য সোহেল আহমদ মাসুদ, মো. কয়ছর রশিদ, আব্দুল আজিজ বেগ এবং স্থানীয় বাসিন্দা কেরামত আলী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য আব্দুল বাছিত প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হিসেবে গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি এককভাবে পরিষদ পরিচালনা শুরু করেন। মাসিক সভা বা প্রকল্প বণ্টন বিষয়ক কোনো সভা না করেই তিনি নিজের খেয়ালখুশিমতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে। সদস্যদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে একটি বেসরকারি সংস্থাকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের দায়িত্ব দেন। ওই সংস্থা প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা আদায় করে। নিয়ম অনুযায়ী এই টাকা পরিষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা থাকলেও, ১২ জন সদস্যের বকেয়া সম্মানী বাবদ ৯ লক্ষ টাকা পরিশোধের পর অবশিষ্ট ২১ লক্ষ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও পরিষদের দৈনিক আয়-ব্যয় রেজিস্টারে এন্ট্রি না করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে চলার মাধ্যমে প্রতি মাসে অন্তত ৪০-৫০ হাজার টাকা লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, চলতি বছরের মে মাসে উপজেলার ১% বরাদ্দ থেকে ২ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন আব্দুল বাছিত। এমনকি বালিসিন্দ্রি গ্রামের একটি রাস্তার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ প্রদানের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট নারী সদস্যের নিকট ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় ওই প্রকল্পের বরাদ্দ বাতিল করে দেওয়া হয়।
এর আগে এসব অনিয়মের বিষয়ে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ইউপি সদস্য তছবির আলী ফয়জুল, ২১ জুলাই কয়ছর রশিদ এবং ৩০ জুলাই সোহেল আহমদ মাসুদ পৃথকভাবে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সদস্য তছবির আলীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে নামেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা। প্রাথমিক তদন্তে তিনি অভিযোগের আংশিক সত্যতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তারা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সোনামোহন বিশ্বাস জানান, সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার জানান, একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পরিষদের একাধিক সদস্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
