ফের বিশ্ববাজারে বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাত ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। নতুন হামলা এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে দোলাচলের মধ্যে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও তা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
লেনদেনের সময় ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৮৬ ডলারে পৌঁছায়। এতে টানা তিন কার্যদিবসের মূল্যপতনের ধারাও ভাঙার পথে রয়েছে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে হামলার খবর প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় তেলের বাজারেও ক্রয়চাপ বেড়ে যায়।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জিএমও’র রেটস স্ট্র্যাটেজিস্ট এডওয়ার্ড অ্যাকটন বলেন, “পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন এবং একের পর এক বিপরীতধর্মী ঘটনার কারণে বাজারে প্রকৃত সংকেত ও গুজব বা সাময়িক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।”
অন্যদিকে, বিওএফএ সিকিউরিটিজের কৌশলবিদরা এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছেন, শুধু তেলের দাম বৃদ্ধি নয়, বরং এর অস্থিরতাও মূল্যস্ফীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাদের ভাষ্য, তেলের দামের ওঠানামার ফলে অনেক পণ্য ও সেবার মূল্য দ্রুত বেড়ে যায়, কিন্তু তেলের দাম কমলেও সেই পণ্যের দাম অনেক সময় আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। ফলে জ্বালানির বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু জ্বালানি বাজারই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার-সংক্রান্ত নীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতি, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং তেল সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

