তীব্র দাবদাহে পুড়ছে সিলেট, তাপমাত্রা পৌছাল ৩৫.৮ ডিগ্রিতে
পাঁচ দিনজুড়ে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস
টানা কয়েক দিনের দাবদাহ, ঝলসানো রোদ ও অতিরিক্ত আর্দ্রতায় হাঁসফাঁস করছে সিলেট। অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের বেলায় নগরীর প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা, আর খোলা আকাশের নিচে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।
তবে দীর্ঘ এই দাবদাহের মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আগামী পাঁচ দিন সিলেট বিভাগে দফায় দফায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। এতে চলমান তাপপ্রবাহের তীব্রতা কমে এসে জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
রোববার (২৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় সিলেটে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫৬ শতাংশ। আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ায় বাইরে বের হওয়া মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে ২৭ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বর্ধিত আরও পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, সাগরে সক্রিয় আবহাওয়াগত সিস্টেমের কারণে মেঘের বিস্তার বাড়ছে। আরও এক থেকে দুই দিন তাপদাহের প্রভাব থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে এসে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।
প্রচণ্ড গরমে দুপুরের পর নগরীর জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার ও মিরাবাজার এলাকায় মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ট্রাফিক পুলিশ, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, ডেলিভারি কর্মী ও দিনমজুররা। অনেককে কাজের ফাঁকে গাছের ছায়া কিংবা দোকানের ছাউনিতে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ঠান্ডা পানীয়, শরবত ও ডাবের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
তীব্র গরমের প্রভাবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পানিশূন্যতা, হিট এক্সহসশন, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তারা পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান, ওআরএস গ্রহণ, হালকা সুতি পোশাক পরিধান এবং দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বৃক্ষনিধন এবং জলাশয় ভরাটের কারণে সিলেট শহরেও ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব বাড়ছে। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় গরমের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত সিলেটবাসীর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বৈরী আবহাওয়ার সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, খোলা মাঠ, উঁচু স্থান ও জলাশয় এড়িয়ে চলা এবং বজ্রপাত-সংক্রান্ত নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

