সুনামগঞ্জে ৮ মাসের শিশুকে সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে ‘হত্যা’, ৪ প্রতিবেশী আটক
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় নিজ ঘর থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর আট মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির অদূরে একটি সেপটিক ট্যাংকির ভেতর থেকে শিশুটির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পূর্বশত্রুতার জেরে শিশুটিকে হত্যা করে ট্যাংকিতে ফেলে রাখা হয়েছে এমন সন্দেহে চার প্রতিবেশীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গুচ্ছগ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুর নাম আমির হামজা। সে ওই গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন ও সাবিকুন্নাহার দম্পতির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে শিশুটির মা সাবিকুন্নাহার তার ঘুমন্ত সন্তানকে বাবা সাব্বির হোসেনের কাছে রেখে জরুরি কাজে বাইরে যান। সকাল ৭টার দিকে সাব্বির হোসেন ঘুম থেকে উঠে দেখেন বিছানায় শিশুটি নেই। চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে এক প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকিতে শিশুটির নিথর দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় যুবক নাঈম মিয়া। তার চিৎকারে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ (পিপিএম)-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। আটকরা হলেন— লালপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে মণির হোসেন (৩০), আব্দুল জব্বারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৭), মণির হোসেনের মা রাবেয়া বেগম (৫৫) এবং জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী আফিয়া বেগম (৩৫)।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে নিহত শিশুর বাবা সাব্বির হোসেনের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। সেই শত্রুতার জেরে শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ (পিপিএম) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা দায়েরসহ এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
