বানিয়াচং শহীদ মিনারের পবিত্রতা ফেরাতে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক এই পবিত্র স্থানে বর্জ্য ফেলার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছিল।
অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে বড় বাজার এলাকার বিভিন্ন দোকান থেকে ময়লা-আবর্জনা, মৃত মুরগি, মুরগির নাড়িভুঁড়ি ও পচা আমসহ নানা ধরনের বর্জ্য শহীদ মিনার চত্বরে ফেলা হতো। এছাড়া আশপাশে পর্যাপ্ত গণশৌচাগার না থাকায় অনেকে শহীদ মিনারের পাশেই প্রস্রাব করায় দুর্গন্ধে পরিবেশ বিষিয়ে উঠছিল। এতে পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।
এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে বানিয়াচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসাইনের নেতৃত্বে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। বর্জ্য অপসারণকারী মেশিনের মাধ্যমে শহীদ মিনার ও এর আশপাশের স্তূপ করা ময়লা পরিষ্কার করে পুরো এলাকাকে চলাচলের উপযোগী ও দুর্গন্ধমুক্ত করা হয়।
অভিযান চলাকালে বানিয়াচং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান বলেন, শহীদ মিনার আমাদের জাতীয় চেতনার ধারক। এমন পবিত্র স্থানে ময়লা ফেলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও ভবিষ্যতে যেন কেউ এখানে বর্জ্য না ফেলে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
সমাজকর্মী সৈয়দ পলাশ মিজান বলেন, জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ পরিষ্কার রাখা আমাদের সবার নাগরিক দায়িত্ব। যারা নিয়ম ভেঙে এখানে আবর্জনা ফেলছেন, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
অভিযান শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসাইন বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আমাদের গৌরব ও আত্মত্যাগের প্রতীক। এ স্থান পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু প্রশাসনের নয়, প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। যারা এখানে বর্জ্য ফেলে পবিত্রতা নষ্ট করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষায় আমাদের নজরদারি ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি রোধে শহীদ মিনার এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, একটি আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণ এবং ময়লা ফেলা বন্ধে স্থায়ী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

