জগন্নাথপুরে জমজ দুই ভাইয়ের অনন্য সাফল্য
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে জমজ দুই ভাই। একই সঙ্গে দুই ভাইয়ের এই অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব এখন পুরো উপজেলায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের ১০৫ নং পীরেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, দুই ভাই-ই মেধা তালিকায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পীরেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করে আসছে। এই জমজ দুই ভাই ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত পরিশ্রমী, নিয়মিত এবং পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল। বিদ্যালয়ের প্রতিটি অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় তারা ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করে আসছিল, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে এই বৃত্তি পরীক্ষায়। এই দুই কৃতী শিক্ষার্থীর পিতা বাবুল মিয়া পীরেরগাঁও দাখিল মাদ্রাসার একজন সহকারী শিক্ষক।
সন্তানদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমার সন্তানদের এই অর্জনে আমি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নৈতিক শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই তারা আজ এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। তারা যেন ভবিষ্যতে আরও বড় হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে পারে, সেজন্য আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাজেদা বেগম তাদের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই দুই ভাই শুধু পড়াশোনায় নয়, বরং শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার এবং সহপাঠীদের সাথে ব্যবহারের দিক থেকেও অনন্য। তাদের এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই সাফল্য অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে উৎসাহিত করবে।’
১০৫ নং পীরেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরেন্দ্র কুমার বৈদ্য বলেন, ‘জমজ দুই ভাইয়ের ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পাওয়ার খবর শোনার পর থেকে বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এটি শুধু একটি পরিবারের সাফল্য নয়, এটি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পুরো জগন্নাথপুরের জন্য গৌরবের বিষয়। মেধার যথাযথ বিকাশে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় যে কতটা জরুরি, এই দুই ভাই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।’
এলাকাবাসীর মতে, তৃণমূল পর্যায়ে এমন মেধার বিকাশ স্থানীয় শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মেধাবী এই দুই ভাই ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের কল্যাণে কাজ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
