হাসপাতাল চালুর দাবিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ
হাওরাঞ্চলের সাড়ে তিন লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিতের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। হাসপাতাল চালুর সুনির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণার দাবিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ১০ম দিনে এসে এই কঠোর কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক ১০ তলা হাসপাতাল ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে প্রস্তুত থাকলেও কেবল আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এটি চালু করা হচ্ছে না। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল ভবনটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বর্তমানে কীটপতঙ্গের আবাসে পরিণত হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল চালুর বিষয়ে বারবার আশ্বাস দিলেও তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে। প্রথমে ২০২৪ সালের জুন এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ডেডলাইন দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের কথা বলে অহেতুক কালক্ষেপণ করা হচ্ছে।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের শিক্ষাজীবন এবং হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এই অবহেলা আর মেনে নেওয়া যায় না। হাসপাতাল চালু না হওয়ায় আমরা নিয়মিত ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে পারছি না। এতে আমাদের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন যেমন হুমকির মুখে, তেমনি সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কের ওপর বাঁশ ফেলে অবস্থান নেন। এ সময় রাজপথ ‘শিক্ষা জীবন নিয়ে ছিনিমিনি, চলবে না চলবে না’, ‘হাসপাতাল চালুর রোডম্যাপ, ঘোষণা করো করতে হবে’—এমন তীব্র স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবিতে অনড় থেকে জানান, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি এসে হাসপাতাল চালুর লিখিত ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা না করা পর্যন্ত তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করবেন না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্গম হাওড় এলাকার জন্য এই ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি অত্যন্ত অপরিহার্য। ভবন প্রস্তুত থাকার পরও সেটি চালু না হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই আন্দোলন এখন কেবল শিক্ষার্থীদের নয়, বরং সুনামগঞ্জবাসীর মৌলিক অধিকারের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
