মাধবপুরে রাজনৈতিক বিরোধে বসতবাড়ি ও দোকানে আগুন-লুটপাট, আহত ১৫
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ‘মাদকের অপবাদ’ দিয়ে কয়েক দফা বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও দক্ষিণ মহল্লায় সংঘটিত এই তাণ্ডবে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ জুন। ওইদিন বাঘাসুরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ফসলের মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। অভিযোগ উঠেছে, অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান সজলের নেতৃত্বে একদল যুবক তাকে বেধড়ক মারধর করে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো এবং জানমালের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় নোয়াগাঁও দক্ষিণ মহল্লার সর্দার জাকির হোসেন রোববার (২৩ জুন) দুপুরে মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
থানায় জিডি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন বিকালেই বিএনপির একটি পক্ষের নেতা ও এপিপি অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান সজল এবং আব্দুল আওয়ালের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক নোয়াগাঁও দক্ষিণ মহল্লায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে জহুর আলীর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরবর্তীতে কাইয়ুম মিয়ার মুদি দোকান ও রাইস মিল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সন্ত্রাসীরা সর্দার জাকির হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে একটি দামি হারভেস্টার (ধান কাটার মেশিন) মেশিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও কৃষক দল নেতা শামসুল হকের বাড়িসহ আরও বেশ কিছু ঘরবাড়িতে তছনছ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রবিবার রাতের হামলার পর পুলিশকে অবহিত করা হলেও সোমবার (২৪ জুন) সকালে পুনরায় একই পক্ষ এলাকায় তাণ্ডব চালায়। দ্বিতীয় দফায় তারা আরও কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে হামলায় মনিরুল ইসলাম (৩৫), নজরুল ইসলাম (৩৮), সামছুল ইসলাম (৪০), কাইয়ুম মিয়া (৩৫), সবুজ মিয়া (৩০), স্বপ্না বেগম (৩৫), সালেমা খাতুন (৬০), ছফিয়া খাতুন (৪০), ফরিদ মিয়া (৩২) সহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর ৬ জনকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জিডির বাদী জাকির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, থানায় নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেও আমরা শেষ রক্ষা পাইনি। আমাদের সহায়-সম্বল লুটপাট করা হয়েছে, মেশিনে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান সজল বলেন, আমি হামলার সাথে জড়িত নই। রাতে মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রামবাসীদের ওপর হামলা করায় উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর চড়াও হয়েছে। আমি বরং মুরুব্বিদের নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি। তারা নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে আগুন দিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
তবে হামলায় আহতদের বিরুদ্ধে মাদকের কোনো মামলা আছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
