অধ্যক্ষের প্রতারণায় পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত, গোয়াইনঘাটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পরগনা বাজার স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগী ১৪ জন শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাজীবন রক্ষায় গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরজমিন রোববার ও সোমবার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে। জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পরগনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নিয়মিত ১৪ জন শিক্ষার্থী যথাসময়ে রেজিস্ট্রেশন ফি এবং যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক পাওনা অধ্যক্ষ মো. ফারুক হোসেনের কাছে পরিশোধ করেন। তবে টাকা গ্রহণের সময় অধ্যক্ষ কোনো রশিদ প্রদান করেননি বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করা হলেও অধ্যক্ষ ‘দিচ্ছি-দিব’ বলে কালক্ষেপণ করেন। সর্বশেষ ১৪ জুন অধ্যক্ষ তাদের সাফ জানিয়ে দেন যে, তাদের কোনো রেজিস্ট্রেশনই হয়নি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। এ খবরে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গণরোষ থেকে বাঁচতে অধ্যক্ষ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম, জাকির হোসেন ও মাজেদা আক্তার জানান, আমরা নির্বাচনী পরীক্ষাসহ সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। অধ্যক্ষের দায়িত্বহীনতা ও জালিয়াতির কারণে আমাদের জীবন আজ বিপন্ন। তিনি সবসময় নিজের পকেটের স্বার্থ দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড় জমেছে। মাজেদা আক্তার নামের এক ছাত্রীর অভিভাবক জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, ওই ছাত্রী সব বিষয়ে পাস করলেও অধ্যক্ষ তাঁর নিজের বিষয় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফেল করিয়ে দিয়েছেন। প্রতিবাদ করলেই শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। এছাড়া সাবেক শিক্ষার্থী সাগর কান্ত পালও একই ধরণের হয়রানির শিকার হয়েছিলেন বলে জানান।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ফারুক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ফি গ্রহণ ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান এবং কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

