কুলাউড়ায় জমি বিরোধে নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল চা-বাগানে একটি নিরীহ পরিবারকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় চা-বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি ও ইউপি সদস্য বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো প্রতিপক্ষের সাথে আঁতাত করে মামলা ও হয়রানিতে ইন্ধন জোগাচ্ছেন। এ নিয়ে বাগান জুড়ে শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরমচাল চা-বাগানের চাম্পাতল লাইনের বাসিন্দা শ্রী ক্রান্তি দাসের (২৮) পরিবারের সাথে তাঁর চাচাতো ভাই জিতনা দাস জিতনের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ক্রান্তি দাস তাঁর বোনজামাই তথা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি দেওদাসের সহযোগিতা চান। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, দেওদাস ও স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মী বিষয়টি সমাধান না করে উল্টো জিতনের পক্ষ নেন।
তাঁদের প্ররোচনায় জিতন মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫নং আমল আদালতে গত ২৯ এপ্রিল ও ২১ মে পৃথক দুটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলায় ক্রান্তি দাস, তাঁর ভাই মিঠুন দাস, চাচা প্রভুয়া দাসসহ নিকটাত্মীয় মাথুরা দাস, মোহনলাল রবিদাস ও সুজন দাসকে আসামি করা হয়। ভুক্তভোগীরা স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি শেষ করতে চাইলেও পঞ্চায়েত সভাপতি ও ইউপি সদস্য তাতে কর্ণপাত করছেন না বলে অভিযোগ।
আরও অভিযোগ উঠেছে, পঞ্চায়েত সভাপতি দেওদাস কৌশলে বিরোধপূর্ণ জায়গাটি জিতনের কাছ থেকে নিজে ক্রয় করে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, জিতনের বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ভাটেরা রাবার বাগানের পাহারাদারকে মারধর করে গাছ চুরির মামলায় তিনি জেলও খেটেছেন। জেল থেকে বের হয়ে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং নিকটাত্মীয়দের জায়গা না দিয়ে দেওদাসের কাছে বিক্রি করে মামলা ও হুমকির মাধ্যমে ক্রান্তি দাসের পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এছাড়া দেওদাসও ক্রান্তি দাসের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জিতনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি দেওদাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জিতনের কাছ থেকে কেনা জায়গার সীমানা নিয়ে সমস্যা ছিল, যা পুলিশের উপস্থিতিতে সমাধান করা হয়েছে।
ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মী বলেন, আমি কোনো পক্ষ নেইনি। উভয়ের বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেছি।
ভুক্তভোগী পরিবারটি এই হয়রানি ও মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
