কুলাউড়া সীমান্তে মুজিবের লাশ একদিন পর ফেরত দিল বিএসএফ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবক মুজিবুর রহমান মুজিবের (২৬) লাশ ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনার একদিন পর বিজিবি ও বিএসএফের কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক শেষে শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন দিয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে লাশটি বিজিবি ও পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এসময় নিহতের স্বজন, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি-বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় শরীফপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকার মনু নদীর চরে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার কাছাকাছি গেলে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন মুজিব। তিনি দত্তগ্রামের লাখাইরচর এলাকার আজিজুর রহমান অজিবের ছেলে। ওই সময় বিএসএফ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভারতের উনকোটি জেলা হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নাজমুল মিয়া (২২) নামে আরও এক যুবক আহত হন। তিনি বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার রাতে ৬-৭ জনের একটি চোরাকারবারী দল সীমান্ত পিলার ১৮৫২/৫-এস হতে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এসময় ১৯৯ ব্যাটালিয়ন লাঠিয়াপুড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাধা দিলে চোরাকারবারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। বিএসএফ আত্মরক্ষার্থে ২-৩ রাউন্ড গুলি ছুড়লে মুজিব ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বিজিবি আরও জানায়, নিহত যুবক ইতিপূর্বে চোরাচালান কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
তবে বিজিবি ও বিএসএফের চোরাচালানের দাবি অস্বীকার করেছেন নিহতের পরিবার। মুজিবের মা, বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের দাবি, মুজিব চোরাকারবারী ছিলেন না। তিনি কেবল মনু নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সেখানে বিএসএফ বিনা উসকানিতে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।
শনিবার রাতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
