দোয়ারাবাজারে গ্রাম আদালত বিষয়ক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ও জনবান্ধব ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে, দ্রুত এবং নামমাত্র ব্যয়ে ন্যায়বিচার পেতে পারে, সে লক্ষ্যে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে হবে। এই আদালত তৃণমূল পর্যায়ে বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে।
গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল হামিদ, দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান।
বক্তারা বলেন, প্রচলিত আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ার তুলনায় গ্রাম আদালত স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এর ফলে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে। তৃণমূল পর্যায়ে এর সুফল পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতকে আরও স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন কুমার সানা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বিজিত রঞ্জন কর, বিআরডিবির প্রকল্প কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান এবং স্থানীয় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।
কর্মশালার শেষ পর্যায়ে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে এবং টেকসই সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
