মাধবপুরে কাটিঙ্গা বিল দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘কাটিঙ্গা বিল’ অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং দ্রুত পুনঃখননের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কাটিঙ্গা বিল সংলগ্ন নয়াহাটি মোড়ে ‘কাটিঙ্গা বিল উদ্ধার ও রক্ষা কমিটি’র উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
বিলের অস্তিত্ব রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার দাবিতে আয়োজিত এই মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশপ্রেমী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কাটিঙ্গা বিল উদ্ধার ও রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম আবুল।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, এক সময়ের বিশাল মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত কাটিঙ্গা বিল এখন প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য সংকটে পড়েছে। প্রভাবশালীদের থাবায় বিলের সীমানা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বক্তারা বলেন, কাটিঙ্গা বিল শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি এই এলাকার হাজারো মানুষের জীবিকা ও পরিবেশের প্রাণ। অথচ ভূমিদস্যুদের কারণে আজ এই ঐতিহ্যবাহী বিলটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সভায় সরকার ও প্রশাসনের কাছে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়-
১. প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বিলের সঠিক সীমানা নির্ধারণ ও পুনঃখনন করা। ২. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিলটিকে মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে শ্রীমঙ্গলের ‘বাইক্যা বিলের’ আদলে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা। ৩. বন বিভাগের তদারকিতে দেশীয় ও অতিথি পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে কাটিঙ্গা বিলকে বিশেষ সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা।
সভায় বক্তব্য রাখেন ফিরুজ মিয়ার সর্দার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিল্লাল মিয়া, আবু জাহের মিয়া, তৌহিদ মিয়া, তাউস মিয়া, অহিদ মিয়া, রায়ধন সরকার ও সুধীন সরকার। এছাড়া সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাদির, খন্দকার সুহান, ইয়ামিন, মুবারক এবং তাঁতী দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিলটি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামীতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তারা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
