চিরনিদ্রায় শায়িত কুলাউড়ার সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার ঢাকার মিরপুরস্থ নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে কুলাউড়া তথা মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কুলাউড়া নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পূর্বে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এসময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুল ইসলামসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে দুপুর ২টায় তাঁর জন্মস্থান জয়চন্ডী ইউনিয়নের কামারকান্দি গ্রামে বিবিমাই (র.) মাজার প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালের ১৭ মার্চ কুলাউড়ার কামারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করা আব্দুল মতিন কর্মজীবনের শুরুতে হিঙ্গাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি ভারতের বিহারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং সক্রিয়ভাবে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অত্যন্ত সফল ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি দুই মেয়াদে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পাঁচবার জয়চন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নিজ এলাকার অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অনবদ্য অবদান স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁকে স্মরণীয় করে রাখবে।
