কমলগঞ্জ ও হবিগঞ্জের ৪ চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় অর্থ সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি। এর ফলে কোম্পানিটির মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মিরতিংগা এবং হবিগঞ্জের লালচাঁদ, নয়াপাড়া ও দেউন্দি—এই চারটি চা বাগানে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ বন্ধ হয়ে গেছে। বকেয়া মজুরির দাবিতে সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে বাগান চারটিতে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।
বাগান কর্তৃপক্ষ এক লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় গত ২১ মে থেকে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক তলব (মজুরি) প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয়ভার বহন করা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার তাদের সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা, অথচ এই সময়ে মজুরি বন্ধ হওয়ায় সাধারণ শ্রমিক পরিবারগুলো চরম মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে মুসলিম শ্রমিকদের মাঝে ঈদের কেনাকাটা ও প্রস্তুতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি ও ইউপি সদস্য ধনা বাউরি বলেন, শ্রমিকরা এমনিতেই স্বল্প মজুরিতে কষ্টে দিন যাপন করেন। এখন পূর্ণ মজুরি না পাওয়ায় তারা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বাগান কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বকেয়া মজুরি দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তাও পাওয়া যায়নি।
এদিকে চা-শ্রমিক সংঘের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে জিনিসপত্রের চড়া দামের বাজারে দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা ৪৩ পয়সা মজুরিতে শ্রমিকদের সংসার চালানো এমনিতেই অসম্ভব। এর ওপর সাপ্তাহিক মজুরি বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক। তারা অবিলম্বে বকেয়া মজুরি পরিশোধ করে বাগান চালুর দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মিরতিংগা চা বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) বলেন, শ্রমিকদের আগের কোনো বকেয়া নেই। ব্যাংক থেকে সময়মতো অর্থ উত্তোলন করা না যাওয়ায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা শ্রমিকদের আপাতত অর্ধেক মজুরি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা গ্রহণ না করে কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে চা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষ আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
