কমলগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারে নামলেন গ্রামবাসী
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অবহেলিত একটি সড়ক সংস্কারে অবশেষে নিজেরাই কোদাল ও ঝুড়ি হাতে মাঠে নেমেছেন গ্রামবাসী। জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় কান্দিগাঁও গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে কান্দিগাঁও জিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কান্দিগাঁও ছাড়াও ছয়শ্রী ও পশ্চিম জলালপুর এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দারুসসালাম ইসলামীয়া মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি।
স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল ওয়াহিদ মাস্টার বলেন, এটি মণিপুরী মুসলিম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত একটি গ্রাম। প্রায় ১৮ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে কাদা আর ভাঙাচোরা সড়কে শিশুদের যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ায় আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছি।
গ্রামবাসী জানান, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘থাওবাল সমিতি’র আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রাথমিকভাবে রাস্তাটি সংস্কার করা হচ্ছে। ৫০ থেকে ৬০ জন গ্রামবাসী এতে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন।
কান্দিগাঁও জামে মসজিদের খতিব ও মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি নুরুল হুদা বলেন, গ্রামবাসী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভাঙাচোরা রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন। তবে এটি একটি অস্থায়ী সমাধান। যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে রাস্তাটি পাকাকরণ করা এখন সময়ের দাবি।
এলাকাবাসীর এই মহতী উদ্যোগ স্থানীয় মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। তবে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত এই অবহেলিত গ্রামটির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়নের জন্য তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী বরাদ্দ দাবি করেছেন।
