দিরাইয়ে সাংবাদিকদের নামে ডিলারদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে খাদ্য অফিস
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ভিজিএফ) ডিলারদের কাছ থেকে সাংবাদিকদের খরচের কথা বলে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে। ডিলারদের দাবি, প্রতিটি চালানের বিপরীতে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগের তীর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফজলুল হক এবং অফিস সহকারী সুবীর তালুকদারের দিকে। ভুক্তভোগী ডিলাররা জানিয়েছেন, খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে সুবীর তালুকদার প্রতি চালানে ডিলারপ্রতি দুই হাজার টাকা করে আদায় করেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন দিরাই পৌরসভার ওএমএস ডিলার তোফায়েল আহমেদ ও মেহরাব হোসেন রুনেল। যদিও তারা দুজনই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাজানগর ইউনিয়নের গচিয়া বাজারের ডিলার লিটন মিয়া জানান, সাংবাদিকদের দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। আমি ছয়বার চাল উত্তোলন করেছি, যার মধ্যে পাঁচবারই এই টাকা দিতে হয়েছে।"
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কুলঞ্জ ইউনিয়নের ডিলার মো. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, "এই টাকা সবাই দেয়। গত মাসে দুই হাজার টাকার পাশাপাশি সুনামগঞ্জের এক সাংবাদিককে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।
করিমপুর ইউনিয়নের ডিলার আবুল হোসেন এবং রাজানগর বাজারের ডিলার তানভির রহমানও এই অনৈতিক অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তানভির রহমান বলেন, আমি দুর্নীতি না করলে কেন টাকা দেব? কিন্তু টাকা না দিলে সুবিধাভোগী লোক পাঠিয়ে আমাদের হয়রানি করা হয়।
এদিকে জগদল ইউনিয়নের কলিয়ারকাপন বাজারের ডিলার সুমন চৌধুরী আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, আগে গুদাম থেকে চাল বের করতে ১৫০০ টাকা লাগত, এখন আড়াই হাজার টাকা লাগে। এমনকি অফিসের চেয়ার কেনার কথা বলেও আমাদের কাছ থেকে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডিলারদের নিয়ে এক মিটিংয়ে খোদ খাদ্য অফিসার (ফুড অফিসার) সাংবাদিকদের টাকা দেওয়ার বিষয়টি তোফায়েল মেইনটেইন করবেন বলে নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে ওএমএস ডিলার তোফায়েল আহমেদ ও মেহরাব হোসেন রুনেল দাবি করেন, তারা ডিলারদের সমন্বয় করেন মাত্র, টাকা আদায়ের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফজলুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কোনো টাকা নিই না। অফিসের চেয়ারগুলো ডিলাররা তাদের বসার সুবিধার জন্য নিজেরাই দিয়েছে, আমি কাউকে আনতে বলিনি।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার জানান, ডিলারদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
