কমলগঞ্জে জলাবদ্ধতায় নাজুক দক্ষিণ চৌমুহনী সড়ক
চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বাজারের দক্ষিণ চৌমুহনী এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং কালভার্টের মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাপানিতে তলিয়ে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজতগামী শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিনের অবহেলায় সড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। অনেক সময় কাদাপানিতে পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে ভবন নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এছাড়া পানি বের হওয়ার একমাত্র মাধ্যম কালভার্টটির মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি আটকা পড়ে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি করছে।
আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন, বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর মুন্না রানা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) বিভিন্ন সময়ে সড়কে ইট ও খোয়া ফেলে সাময়িক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা এবং ভারী যানবাহনের চাপে ১০-১৫ দিনের মধ্যেই সেগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
স্থানীয় অভিভাবকরা আক্ষেপ করে বলেন, বর্ষা মৌসুম এলে আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো দায় হয়ে পড়ে। রিকশা বা মোটরসাইকেলও এই রাস্তায় চলতে চায় না। আমরা দ্রুত এই রাস্তাটি পাকা করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান চাই। জনদুর্ভোগ লাঘবে তারা মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর (হাজী মুজিব) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, আদমপুর দক্ষিণ চৌমুহনী সড়কের নাজুক অবস্থা আমি সরেজমিনে দেখেছি। বাজার পরিচালনা কমিটিকে আপাতত চলাচলের উপযোগী করার জন্য মেরামত করতে বলা হয়েছে। স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য গতকালই আমি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছি এবং উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুতই এর একটি স্থায়ী সমাধান হবে।
