দিরাইয়ে উন্মুক্ত ড্রেন যেন মরণফাঁদ, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরের ব্যস্ততম বাজার এলাকায় উন্নয়নের নামে খুঁড়ে রাখা ড্রেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ চার মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় এবং ড্রেনটি উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরের রাজাপুর গ্রামের বজলু মিয়া ড্রেন পার হতে গিয়ে গভীর খাদে পড়ে যান। এতে তার মাথা ফেটে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এর কয়েকদিন আগে একইভাবে গর্তে পড়ে পা ভেঙেছেন ব্যবসায়ী বিপ্লব শর্মা। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিদিনই ড্রেনের গর্তে পড়ে কেউ না কেউ আহত হচ্ছেন।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দিরাই প্রধান বাজারে ২৩৫ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ৩ জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মো. আতিকুর রহমান’ মূল কাজই শুরু করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেনটি উন্মুক্ত থাকায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। খোলা ড্রেনের পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে ব্যবসায়ীরা যেমন বিড়ম্বনায় পড়েছেন, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মশার উপদ্রব। গর্তের কারণে দোকানে ক্রেতা আসতে না পারায় অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
দিরাই বাজার মহাজন সমিতির সভাপতি নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ মিটিংয়ে বলেছিল এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করবে। অথচ তিন মাস পার হয়ে গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। ড্রেন উন্মুক্ত করে দিয়ে মানুষের জীবন বিপন্ন করে রাখা হয়েছে।
সমিতির কোষাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, একসঙ্গে পুরো ড্রেনের স্ল্যাব না সরিয়ে পর্যায়ক্রমে কাজ করলে এই ভোগান্তি হতো না।
কাজে ধীরগতির কথা স্বীকার করে দিরাই পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মলয় ভট্টাচার্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন।
তবে ভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন দিরাই পৌরসভার প্রশাসক ও এসিল্যান্ড জিয়াউল ইসলাম সৌরভ। তিনি বলেন, বর্তমানে হাওরে ধান কাটার মৌসুম চলায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ড্রেন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বড় কোনো প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
