বালাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিবেশীর হামলা, থানায় অভিযোগ
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্দুল আহাদ (৪৪) নামে এক ব্যক্তির ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ওই ব্যক্তির বাম হাতের হাড় ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের নশিওরপুর গ্রামে। এ ঘটনায় আহত আব্দুল আহাদ বাদী হয়ে প্রতিবেশী চারজনের নাম উল্লেখ করে বালাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—একই গ্রামের ছায়েম আহমদ (২২), আকাশ মিয়া (১৯), হেপি বেগম (৩৮) ও ফজলু মিয়া (৪২)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে আব্দুল আহাদ নিজের বাড়ির উঠানে ধান শুকাচ্ছিলেন। এসময় প্রতিবেশী হেপি বেগম সেখানে জোরপূর্বক রশি টানিয়ে ভেজা কাপড় শুকাতে দেন। আব্দুল আহাদ এতে আপত্তি জানালে হেপি বেগম তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং চিৎকার করে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডেকে আনেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আব্দুল আহাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ছায়েম আহমদ লোহার ভেলচা দিয়ে আব্দুল আহাদের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি বাম হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে ভেলচার সরাসরি আঘাতে তাঁর বাম হাতের কনুইয়ের নিচের হাড় ভেঙে যায় এবং গুরুতর জখম হয়। এছাড়া আকাশ মিয়া জিআই পাইপ দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করেন। ফজলু মিয়া ও হেপি বেগমও সরাসরি হামলায় অংশ নেন বলে বাদী দাবি করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত হেপি বেগম অত্যন্ত কলহপ্রিয় নারী। তিনি প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনায় গ্রামবাসীদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এর আগে গ্রাম পঞ্চায়েত একাধিকবার বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও তিনি তা মানেননি। নিরুপায় হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত এক পর্যায়ে তাঁকে সামাজিকভাবে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বালাগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আহত আব্দুল আহাদ এবং তাঁর পরিবার এই হামলার সুষ্ঠু বিচার ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
