তালাকপ্রাপ্ত স্বামীকে ফাঁসাতে এসপিকে ঘুষ দিতে গিয়ে কারাগারে জেসমিন
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানায় পুলিশ সুপারকে (এসপি) ঘুষ দিতে গিয়ে যাওয়া দুই নারী-পুরুষকে আটকের পর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতে র মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা। তিনি বলেন, ঘুষ দেয়ার চেষ্টার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে আটক মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ ও জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে কুলাউড়া থানায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) ঘুষ দিতে গিয়ে তারা পুলিশের হাতে আটক হন।
মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে ও স্থানীয় চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী। অন্যদিকে জেসমিন আক্তার হলেন রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত তাহির আলীর মেয়ে।
পুলিশ সূত্র জানায়, কুলাউড়ার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব মিয়ার সঙ্গে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন আক্তারের পারিবারিক বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। স্বামীকে নাজেহাল করতে ইতোপূর্বে জেসমিন আক্তার তার মেয়েকে মাহতাব মিয়া ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন। এমনকি নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। বর্তমানে তার স্বামী বিদেশ যাওয়ার খবর শুনে স্বামী যাতে বিদেশ না যেতে পারে সেজন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে নগদ দুই লাখ টাকাসহ ব্যবসায়ী সামাদ চৌধুরীকে নিয়ে থানায় আসেন।
ওই সময় থানায় চলছিল সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানের দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন। পরিদর্শনের সময় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জেসমিন আক্তার তার স্বামীর বিদেশ যাওয়া বন্ধ করার জন্য সামাদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন। একপর্যায়ে সামাদ চৌধুরী কৌশলে জেসমিন আক্তারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে সেখান থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে ৪০ হাজার টাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দিতে যান।
এসময় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সামাদ ও জেসমিনকে টাকাসহ আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার খবর জানাজানি হলে কুলাউড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, কুলাউড়া থেকে জেসমিন আক্তার নামের এক মহিলা বেশ কয়েকদিন থেকে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য মোবাইল ফোনে কথা বলেন।
