কমলগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের কেওলার হাওরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় আগাম বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়েছেন হাজারো কৃষক। ধান কাটার আগ মুহূর্তে প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণে অনেক চাষি এখন সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে পতনঊষার এলাকার কেওলার হাওর ও সাইয়া খলি হাওর ঘুরে দেখা যায়, সোমবার রাত থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এতে হাওরের প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া মুন্সিবাজার, শমশেরনগর ও আলীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও বোরো ধান ও মৌসুমি সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এই পূর্বাভাস কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর করে দিয়েছে।
কেওলার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আনোয়ার খান আক্ষেপ করে বলেন, গত দুদিনের বৃষ্টি আর ঢলে আগাম বন্যার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফলানো সোনার ধান এখন পানির নিচে। অনেক কৃষক ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং মহাজনি দাদন নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। যদি ধান ঘরে তুলতে না পারি, তবে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে এবং ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে। আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি যে হঠাৎ এমন দুর্যোগ নেমে আসবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৭০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ এবং ৩৫০ হেক্টর জমির ফসল আংশিকভাবে নিমজ্জিত হয়েছে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, যদি দ্রুত পানি নেমে যায় তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, হাওরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পুরো উপজেলার বোরো ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন
