দিরাইয়ে রণক্ষেত্র দুই গ্রাম: ধান কাটা ও হাঁস-মুরগি নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪০
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ধান কাটা ও হাঁস-মুরগি নিয়ে বিরোধের জেরে পৃথক দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার হাজারীপুর ও জগদল গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটা এসব রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ৪ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের হাজারীপুর গ্রামে সরকারি গোপাট দিয়ে ধান আনাকে কেন্দ্র করে বিজয় তালুকদার ও রথীন্দ্র তালুকদারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ইতিপূর্বেও এই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল, যা স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রথীন্দ্র তালুকদারের লোকজন হাওর থেকে ধান নিয়ে আসার সময় বিজয় তালুকদারের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে রথীন্দ্র তালুকদারের পক্ষের ১০ জন এবং বিজয় তালুকদারের পক্ষের ১ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে রেফার করেন।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুর ২টার দিকে উপজেলার জগদল গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বাড়ির আঙিনায় হাঁস-মুরগি যাওয়া নিয়ে দুই পরিবারের মহিলাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এর একপর্যায়ে গ্রামের আবাব মিয়া ও তফরুজ মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের অধিকাংশকেই দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পৃথক দুটি সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
