কমলগঞ্জে টিলা কেটে ভবন নির্মাণের চেষ্টা, প্রশাসনের অভিযানে পালাল শ্রমিকরা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরি গ্রামে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত টিলা কেটে সাবাড় করে ভবন নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে অবশেষে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এস্কেভেটর (ভেকু) ফেলেই পালিয়ে যায় শ্রমিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয়ঘরি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় টিলা কেটে সমতল করে সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের বেলা কিংবা গভীর রাতে পাহাড় ও টিলা কাটার এ মহোৎসব চললেও এতদিন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ ছিল না। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
পরিবেশকর্মী নুরুল মোহাইমিন মিলটন এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, টিলা কাটা শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, এটি ভূমিধস, জলাবদ্ধতা এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। প্রশাসনের উচিত জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিলা কাটার বিষয়টি প্রচার হওয়ার পরপরই আমরা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে লোক পাঠাই। কিন্তু প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিকরা এস্কেভেটর ফেলে পালিয়ে যায়। আমরা যন্ত্রটি জব্দ করার প্রক্রিয়া করছি এবং এই ঘটনার নেপথ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, টিলা ও পাহাড় রক্ষা করা শুধু পরিবেশগত দায়িত্ব নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ জনপদ নিশ্চিত করার আবশ্যকতা। তারা দ্রুত অবৈধ টিলা কাটা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
