সংসদে যাচ্ছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরীর কন্যা ব্যারিস্টার জহরত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে (মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী। সোমবার (২০ এপ্রিল) দলের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসার পর তাঁর নির্বাচনী এলাকা মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ীসহ জেলাজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার রূপকার হিসেবে পরিচিত, সাবেক খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এবং চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীর কন্যা। তিনি বড়লেখার ইতিহাসের প্রথম নারী ব্যারিস্টার।
ব্যারিস্টার জহরত কেবল পিতার পরিচয়েই নয়, বরং এক সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূও। তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং সাবেক সচিব ব্যারিস্টার মো. হায়দার আলীর পুত্রবধূ। তাঁর স্বামী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জিসান হায়দার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।
যোগ্য প্রার্থীকে সংসদ সদস্য মনোনীত করায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক সাজু।
তিনি বলেন, বড়লেখার কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী জাতীয় সংসদে আমাদের অঞ্চলের মানুষের কথা বলবেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় থেকে শুরু করে চূড়ান্ত হওয়ার পর পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, তিনি তাঁর মরহুম পিতার আদর্শ অনুসরণ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের সেবা করবেন।
বড়লেখা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মুজিব রাজা চৌধুরী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বড়লেখা ও জুড়ীর মানুষের উন্নয়নের স্বার্থেই জহরত আদিব চৌধুরীর মতো একজন উচ্চশিক্ষিত ও যোগ্য মানুষকে আমরা রাজনীতিতে এনেছিলাম। তিনি তাঁর বাবার ছায়াসঙ্গী হিসেবে মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও মানুষের চাহিদা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আজ আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছেন তারেক রহমান।
পারিবারিক ঐতিহ্য, পেশাদারিত্ব এবং ক্লিন ইমেজের কারণে জহরত আদিব চৌধুরীকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষিত ও মেধাবী এই নেত্রী মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবং সংসদে এই অঞ্চলের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
দলের হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। মনোনীত হওয়ার পর জহরত আদিব চৌধুরী তাঁর ওপর আস্থা রাখায় দলের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং সকলের দোয়া চেয়েছেন।
