সিলেটে হামের টিকার লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১৩ লাখ
হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিনই। আনুপাতিক হারে বাড়ছে মৃত্যুও। তাই হামের প্রাদুর্ভাব রোধে আজ সোমবার সিলেটসহ সারা দেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন। এদিন সিলেট বিভাগে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৫১ হাজার। টিকাদান সংক্রান্ত এ তথ্য রোববার বিভাগীয় পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি সভায় জানানো হয়।
এদিকে একই দিন বিকেল সোয়া ৩টায় সিলেট জেলা সিভিল সার্জন অফিসে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫১৪জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন।
তিনি জানান, সোমবার অগ্রগামী বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে সকাল ১০টায় টিকাদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একইদিন জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
রোববার বিভাগীয়বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিয়াউর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে মারাত্মক সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ভিন্নতা রয়েছে, যা কিছু সমস্যার সৃষ্টি করছে।
পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি সভায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিলেট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, সিলেট জেলায় ৬ মাস থকে ৫ বছর কম বয়সী সকল শিশুর জন্য এ টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলবে। উক্ত ক্যাম্পেইনের আওতায় সিলেট জেলায় মোট ২ হাজার ৪৬১টি টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৪ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। সাধারণত একজন আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যদের মাঝে হাচি-কাশির মাধ্যমে অতি দ্রুত ছড়ায়। হামের সংক্রমনের উপসর্গ দেখা দিতে ১০-১৪ দিন সময় লাগতে পারে। প্রাথমিক উপসর্গ সাধারনত জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও সর্দি ইত্যাদি।
সিভিল সার্জন জানান, জটিলতাগুলোর মাঝে আছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনফালাইটিস, অন্ধত্ব, বধিরতা ইত্যাদি। শিশুদের মাঝে এর প্রকোপ, জটিলতা ও মৃত্যু বেশি দেখা যায়।
অন্যদিকে, রুবেলাও একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামণ রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। এই দুইটি রোগ থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে সঠিক সময়ে টিকা দিয়ে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা।
তিনি আরও জানান, টিকা গ্রহণের জন্য ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ইপিআই ভ্যাকসিনেশন অ্যাপের (VAXEPI) মাধ্যমে অনলাইন নিবন্ধন করা যাবে। তবে নিবন্ধন ছাড়াও সরাসরি টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা গ্রহণ করা সম্ভব।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন:
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে ৬৮ হাজার ৫৮০ জন শিশুকে ১ ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন সিসিক’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম।
হবিগঞ্জ:
হবিগঞ্জ জেলায় ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪১ জন শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে। মোট ১ হাজার ৯১৩টি টিকাদান কেন্দ্রে এসব টিকা দেওয়া হবে। ৫ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি সব শিশুকে এ টিকার আওতায় আনা হবে।
২০ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এ টিকাদান কর্মসূটি। এ টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। রোগটি ছোঁয়াচে, তাই সবাইকে সাবধান থাকার আহবান জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. রত্মদ্বীপ বিশ্বাস। সিভিল সিভিল সার্জন ডা. রত্মদ্বীপ বিশ্বাস নিজ কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, জেলায় এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়েছেন ৭ জন। তবে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে ১৬ জন শিশু। এছাড়াও ঢাকায় পরীক্ষার জন্য সন্দেহভাজন ১০৩ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। তবে এ রোগে এখনও পর্যন্ত জেলায় কেউ মারা যায়নি। তাদের চিকিৎসার জন্য সদর আধুনিক হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডকে আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়েছে। আর উপজেলা হাসপাতালগুলোতে এক বা দু’টি কেবিন আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ:
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জেলার ১২ টি উপজেলায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৮শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে।
হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ সফল করার লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জ ইপিআই ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার অভিভাবকদের নিকটস্থ কেন্দ্রে সন্তানদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার:
আজ সোমবার থেকে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু হবে। জেলায় ২ লাখ ১০ হাজার ১৮৬ শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুনুর রহমান।
