ফ্যাসিস্টদের ফেরার সুযোগ দিলে দেশে আরেকটি ৫ আগস্ট হবে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, “৫ আগস্টের পূর্বে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তারা এ দেশে ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছে। শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে ১৪০০ ছাত্রকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এসব অপরাধীদের কোনো ক্ষমা নেই। এদেরকে যদি কেউ সহানুভূতি দেখায়, প্রশ্রয় দেয় কিংবা আগামীতে রাজনীতিতে ফেরার স্বপ্ন দেখায়, তবে এ দেশের মানুষ তাদেরও ছাড় দেবে না। তখন দেশে আরেকটি ৫ আগস্ট সৃষ্টি হবে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘মাহে রমাদ্বানের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ক্ষমতাসীনরা যেন পুনরায় ফ্যাসিবাদী হয়ে না ওঠেন। আমরা জামায়াতে ইসলামী সর্বদা জনগণের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকব এবং সত্যিকারের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা অতীতে উন্নত শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারিনি। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্বে থেকে একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। ইসলামের আদর্শ ও কুরআনের ভিত্তিতে দেশ গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর।
কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল মুনতাজিমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি প্রভাষক বেলাল আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী ও জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল ইয়ামীর আলী।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা আমীর মাস্টার আব্দুল হামিদ খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কুলাউড়া উপজেলা সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক কমিটি কুলাউড়া উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শাহ আলম সরকার ও সদস্য সচিব মাহবুব জামান শিহাব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য রাজানুর রহিম ইফতেখার, নায়েবে আমীর মো. জাকির হোসেন, সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম খান ও মো. আলাউদ্দিনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
