ওসমানীনগরে সাদীপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে উত্তেজনা
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান ও প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার বিকেলে বর্তমান চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন পরিষদের রেজুলেশন বই নিতে আসলে অন্য পক্ষ বাধা প্রদান করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদীপুর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ও তাজপুর ডিগ্রী কলেজের সাবেক ভিপি সাহেদ আহমদ মূসা। গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের পর সাহেদ আহমদ মূসার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে একটি পক্ষ। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে পরিষদ পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ মূসা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যুক্তরাজ্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে নতুন প্যানেল তৈরির দাবি ওঠে। কিন্তু চেয়ারম্যান নতুন প্যানেল না করে পুরাতন তালিকার ৩ নম্বরে থাকা আছারুন নেছাকে দায়িত্ব দিতে চাইলে পরিষদের অন্য সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকাল ৩টার দিকে চেয়ারম্যান মূসার লোকজন ইউপি অফিস থেকে রেজুলেশন বহি নিতে আসলে ইউপি সদস্য বখতিয়ার হোসেন তার অনুসারীদের নিয়ে বাধা প্রদান করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বখতিয়ার হোসেন বলেন, আমরা পুরাতন প্যানেল ভেঙে নতুন প্যানেল তৈরি করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছি। গতকাল চেয়ারম্যান সাহেবের লোকজন রেজুলেশন বহি নিতে আসলে আমরা তাতে বাধা দিয়েছি।
অন্যদিকে প্যানেল তালিকার ৩য় অবস্থানে থাকা ইউপি সদস্য আছারুন নেছা বলেন, আমি প্যানেল তালিকায় থাকায় চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি নিয়মমাফিক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ পাওয়ার যোগ্য। একটি গ্রুপ ব্যক্তিস্বার্থে আমাকে মেনে নিতে পারছে না।
ইউপি সচিব শ্রী অমিত সিংহ জানান, দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ মূসা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এখন পর্যন্ত কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
