ওসমানীনগরে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই, আটক হয়নি কেউ
সিলেটের ওসমানীনগরে যাত্রী সেজে অটোরিকশায় উঠে চালককে নির্মমভাবে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বেগমপুর-চাতলপাড় সড়কের কেশবখালী নদীর দক্ষিণ পাড় থেকে ওই চালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত চালকের নাম মো. শিপন আহমদ (২৫)। তিনি ওসমানীনগর থানার রাইগদারা গাংপার গ্রামের আশরফ আলীর ছেলে এবং ৮ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তানের জনক।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিপন তার বড় বোনের মালিকানাধীন একটি ‘অন টেস্ট’ অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশে কেশবখালী নদীর পাড়ে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, শিপনের মুখের বাম পাশে কানের নিচে একটি এবং বুকের বাম পাশে দুটি গুরুতর জখম রয়েছে। পুলিশের ধারণা, অজ্ঞান পার্টি বা ছিনতাইকারী চক্র যাত্রী সেজে গাড়িতে উঠে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং পরে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহত শিপনের বড় বোন শাবানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিপনের মোবাইলে কল দিলে সে জানায়, যাত্রী নিয়ে দূরের ভাড়ায় যাচ্ছে। এর ১০ মিনিট পর আবার কল দিলে এক অপরিচিত ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে “পরে কথা হবে” বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং মোবাইল বন্ধ করে ফেলে। তখন থেকেই আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম।’
এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল হাসান ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রাথমিকভাকে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা তাকে খুন করেছে। আমরা নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
এদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এবং ৮ মাসের শিশু এতিম হওয়ায় শিপনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
