রাজনগরে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে বাঁধ নির্মাণ
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় কাউয়াদীঘি হাওরের ৮নং জে.এল এর শালকাটুয়া জলমহালে ইজারাদারদের দেওয়া মাটির বাঁধে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ১২০ একর জমির বোরো আবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সীমানা নির্ধারণে হাইকোর্টের সুস্পষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে পানি আটকে রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ও প্রতিকার চেয়ে শনিবার বিকেলে রাজনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জমির মালিক স্থানীয় দক্ষিণ খারপাড়া গ্রামের ফজলুল হক নীরু।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, কাউয়াদীঘি হাওরের শালকাটুয়া জলমহালের পাশেই এসএস মৌরসি ও আরএস খতিয়ানভুক্ত (খতিয়ান নং ৩৪০৯, ৩৫১০, ৩৬১৪, ৯০০, ৭২২, ৫৬৩, ৩২০৮ সহ অন্যান্য) প্রায় ১২০ একরের বেশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। কিন্তু সরকারি জলমহালের সীমানা সুনির্দিষ্ট না থাকায় ইজারাদাররা জোরপূর্বক মালিকানাধীন জমিকে জলমহালের অংশ হিসেবে দেখিয়ে বাঁধ নির্মাণ করেছেন। এতে পানি আটকে থাকায় এসব জমিতে বোরো ধান আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।
জমির মালিকরা জানান, ২০১৪ সালে তারা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। কোনো প্রতিকার না পেয়ে তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং ১৪১২৮/১৬) দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর আদালত সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালত পুনরায় একই আদেশ দেন। জেলা প্রশাসন থেকে একাধিকবার সীমানা নির্ধারণের জন্য চিঠি দেওয়া হলেও স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার হস্তক্ষেপে তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়, শালকাটুয়া জলমহালটি চলতি ১৪৩২ বাংলা সন থেকে ৬ বছরের জন্য ইজারা নেয় ‘সোনালী স্বপ্ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’। নীতিমালা অনুযায়ী সাব-লিজ দেওয়া নিষিদ্ধ হলেও ইজারাদার বিরেশ বিশ্বাসের বদলে পাঁচগাঁও ইউনিয়নের খালদার গ্রামের লিটন মিয়া এটি পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লিটন মিয়া জলমহালের সীমানার বাইরে গিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ভাটিতে বাঁধ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জমির মালিক পক্ষের টিপু সুলতান ও অন্য শরিকরা বাঁধ নির্মাণে বাধা দিতে গেলে লিটন মিয়া ও তার লোকজন তাদের বাধা দেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়ান। বিষয়টি লিটন মিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকরা অবিলম্বে হাইকোর্টের আদেশ মেনে সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে বোরো আবাদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
