সীমান্ত জনপদের তিন উপজেলায় ৮৬ মন্দিরে দুর্গোৎসবের বর্ণিল আয়োজন
বছর ঘুরে আবারও ফিরে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে সিলেট বিভাগের সীমান্ত জনপদের তিন উপজেলা গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জের ঘরে ঘরে আনন্দের আবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা শিল্পীরা রঙের তুলিতে শেষ আঁচড় দিয়ে দুর্গা প্রতিমাকে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এই তিন উপজেলায় এবার মোট ৮৬টি সার্বজনীন পূজা মণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে গোয়াইনঘাটে ৪০টি, জৈন্তাপুরে ১৯টি এবং কোম্পানীগঞ্জে ২৭টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপেই এখন চলছে প্রতিমা শিল্পীদের নিপুণ হাতের কাজ। অন্যদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নতুন পোশাক কেনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করছেন।
দীর্ঘকাল ধরে এই সীমান্ত জনপদের ২৫টি ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মুসলমানদের মধ্যে এক উজ্জ্বল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন বিদ্যমান। প্রতি বছরই দুর্গাপূজার সময় শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উভয় ধর্মের মানুষ শুভেচ্ছা বিনিময় ও উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে থাকেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গোয়াইনঘাট উপজেলা সভাপতি বাবু সুভাষ চন্দ্র পাল ছানা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নারদ বিশ্বাস জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই, সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, অতীতের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে এই বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সাথে ইতিমধ্যেই মতবিনিময় সভা এবং প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ এবং গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, থানা এলাকার সবকটি মন্দিরে সৌহার্দ্যপূর্ণ, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যময় ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে এসআই পদমর্যাদার সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারের পাশাপাশি একাধিক কনস্টেবল, আনসার সদস্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা থানা এলাকাজুড়ে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং সাদা পোশাকে পুলিশি টহল জোরদার থাকবে। মাদক, জুয়া বা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি ও প্রয়োজনে কঠোরতা অবলম্বন করবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, বছর ঘুরে আবারও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা এসেছে। আসন্ন দুর্গোৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে আনন্দের আয়োজন শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সকলের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বত্র সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে থেকে সেবার মানসিকতা নিয়ে পূণ্যার্থীদের পাশে থাকবে প্রশাসন।
