আমৃত্যু কুরআনের খাদিম হয়ে থাকতে চান হাফেজ জামিল আহমদ
পাঁচবছর ধরে রাজধানী ঢাকায় খতমে তারাবির নামাজে ইমামতি করছেন হাফেজ জামিল আহমদ। অত্যন্ত সুনামের সাথে মুসল্লিদের ভালবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।
হাফেজ জামিল আহমদ সিলেট নগরীর ২৫নং ওয়ার্ড কায়স্তরাইলস্থ হযরত শাহজালাল মুজাররাদে ইয়ামনী (রহ.) মাদরাসা ও এতিম খানা থেকে ২০১২ সালে হিফজুল কুরআনের সবক শুরু করেন। এবং ২০১৫ সালে তাকমিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৫ বছর ধরে নিয়মিত তারাবির নামাজ পড়াচ্ছেন। খতমে তারাবিতে তার তেলাওয়াতের মাধুর্যে ও কুরআন তেলাওয়াতের সুর মুসল্লিদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলছে।
পবিত্র রমাজান মাস কুরআন নাজিলের মাস। হেরা গুহায় রবের ধ্যানে মগ্ন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ঠিক সেই মুহুর্তে মানবতার মুক্তির বার্তা ও পথপ্রদর্শনের গাইডলাইনের রূপরেখা হিসেবে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা আলাকের প্রথম পাঁচখানা আয়াত নিয়ে নবীর কাছে আসলেন ওহীর বার্তাবাহক ফেরেস্তা হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম। এই হেরা গুহা থেকে বিশ্ব মানবতার পথের দিশারী, ঐশীগ্রন্থ আল কুরআন নাজিলের শুভসূচনা হলো।
কিন্তু কুরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কোনো মিথ্যা এর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। না এর সম্মুখ থেকে না পেছন থেকে। (সূরা হা মীম সাজদাহ: ৪২)। মূলত আল্লাহ তাআলা নিজেই কোরআন হেফাজত ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। এর মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্কের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বলেছেন: তোমরা আল্লাহর রজ্জু (অর্থাৎ এই কোরআন) মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)।
কুরআনকে বক্ষে ধারণ করে যুগযুগ ধরে মুসলমানরা হাফেজ হচ্ছেন। কুরআন নাজিলের মাস রমজানে এর চর্চা যেনো বাকি ১১মাসের তুলনায় বেড়ে যায় দ্বীগুন। মসজিদে মসজিদে তারাবির নামাজের মাধ্যমে খতমে কুরআনের চর্চা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনপ্রমী হতে উৎসাহিত করে।
রোজায় কুরআনের সুর বাঁজে মুমিনের ঘরে ঘরে। তারাবির নামাযে পঠিত হয় কুরআন। পহেলা রোযা থেকে একাধারে ২৭ রোযা পর্যন্ত সিলেটের সকল মসজিদে মসজিদে হাফেযে কুরআনদের কণ্ঠে ধ্বণীত হয় ঐশীবাণী মহাগ্রন্থ কুরআনের বাণী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। এসকল হাফেযে কুরআনদের খেদমতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহকে পাওযার আশায় থাকেন। মাহে রমজানজুড়ে দৈনিক শ্যামল সিলেটের বিশেষ আয়োজন ‘আলোর পরশমণি’তে আজ স্থান পেয়েছে হাফেজ হাফেজ জামিল আহমদ এর কথা।
সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার চিন্তামনি গ্রামের জুনেদ আহমেদের ঘরে ২০০১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন হাফেজ মো. জামিল আহমেদ।
তিনি ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল ঢাকার বনানী কাঁচাবাজার জামে মসজিদে তারাবি পড়াচ্ছেন।
অনুভূতি জানাতে গিয়ে হাফেজ জামিল আহমদ বলেন, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ মুখস্ত করে দ্বীন ও আখেরাতের খেদমত করার সুযোগ হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা যেন আমৃত্যু কুরআনের খেদমত করার তৌফিক দান করেন।
হাফেজ জামিল আহমদ আরও বলেন, আমি আমার মাতাপিতা, উস্তাদদের শুকরিয়া আদায় করছি যাদের মেহনত ও দুয়ার বদৌলতে আমি হাফিজে কুরআন হয়েছি। তারাবির নামাজে ইমামতির দ্বারা আমি মুসল্লিদের যে ভালোবাসায় পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। আমার দিলের একটাই চাওয়া আল্লাহ তায়ালা যেনো আমাকে আমৃত্যু কুরআনের খাদিম হিসাবে নিয়োজিত রাখেন।
