কুলাউড়া সীমান্তে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি, আটক ৮
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে ৮ জনকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯। তাদের মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে অপর ছয়জনকে ভারতে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এসআরবি-৯-এর সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার বিকেলে উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসআরবি-৯-এর সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কুলাউড়া থানার শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর এলাকার একটি বসতঘরে কয়েকজন ব্যক্তি বৈধ পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন।
এ তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে ওই বসতঘরে অভিযান চালায় এসআরবির একটি দল। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আটজনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মো. হারিছ আলী (৩৫) ও মো. আবুল আলী (৪৫) মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য। তারা অপর ছয়জনকে কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিলেন বলে জানায় এসআরবি-৯। পরে তল্লাশি চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের কাছে ভারতে যাওয়ার কোনো বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সঞ্জরপুর এলাকার মো. হারিছ আলী (৩৫) এবং মো. আবুল আলী (৪৫)।
এ ছাড়া গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সীতারামপুর এলাকার আমিনুর শরীফ (৪২), মো. মফিজুর শিকদার (৪৩), ধিরাই এলাকার কামরুল মোল্যা (৪৬), ভুলবাড়িয়া এলাকার ইয়ামিন মোল্যা (৪৫) ও সুখলাল বিশ্বাস (৪১) এবং সদর উপজেলার মালিবাতা এলাকার মো. জিহাদ সরদার (৪০)।
এসআরবি-৯ জানায়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম ও মানব পাচারের চেষ্টার অভিযোগে The Bangladesh Passport Order, 1973-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে আটক আটজনকে কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআরবি-৯-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
