১২ বছরেও কাটেনি হাদারপারের মানুষের দুর্ভোগ
সেতুহীন লালটেকি
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১ নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম হাদারপার এলাকার লালটেকি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে নদীর ওপর সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলায় করে নদী পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লালটেকি এলাকায় সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। বিকল্প সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হলে প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ— দুটিরই অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের। এ ছাড়া জরুরি রোগী ও প্রসূতিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা। নদী পারাপারে কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই লালটেকি এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
চলতি বছরেই কাজ শুরুর আশাবাদ
লালটেকি সেতু নির্মাণের বিষয়ে ১ নং রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন শিহাব জানান, সেতুর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সেতু এলাকা পরিদর্শন করেছেন। চলতি বছরেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিন বলেন, বর্ষা মৌসুমে হাজারো মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জনস্বার্থে এখানে সেতু নির্মাণ করা জরুরি। তিনি দ্রুত সেতু নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হাসিব আহামেদ জানান, লালটেকি এলাকায় নদীর ওপর সেতু না থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ বিবেচনায় সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট থেকে মুক্তি চান লালটেকি এলাকার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

