শাল্লায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনওর অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অর্থবাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি এবং বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে পুরাতন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অপসারণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। যোগ্যদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক পরিচয় ও অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের একাংশ কাজ করছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক হাসান মুন্না বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের বদলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করছেন। এছাড়া একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্যদের সংসদ সদস্যের ডিও লেটার পাইয়ে দেওয়ার পেছনে কোনো বড় ধরনের সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা জানতে চাই, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কাদের ইঙ্গিতে সম্পন্ন হচ্ছে? কোনো অনিয়ম কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চললে তা এলাকাবাসী মেনে নেবে না।
অবিলম্বে বিতর্কিত নিয়োগ স্থগিত করে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় নতুন করে যোগ্য ডিলার নিয়োগের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াসচন্দ্র দাস বলেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা সীমিত। আমরা এখান থেকে নাম প্রস্তাব করে পাঠিয়েছি মাত্র, বাকি প্রক্রিয়াটি মন্ত্রণালয় থেকে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।
মানববন্ধনে মো. শহিদ মিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এরশাদ মিয়া, কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা মো. রাব্বুল মিয়া, মো. সফি মিয়া, মো. বাবু মিয়াসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি অবিলম্বে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল ও ইউএনওকে প্রত্যাহার করা না হয়, তবে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
