জমির বিরোধে মাছ নিধন ও ঘর সংস্কারে বাধা, কমলগঞ্জে থানায় মামলা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের মিনারাই গ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন এবং বসতঘর সংস্কারে প্রতিপক্ষের বাধার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বৃষ্টিতে ভিজে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন রুপজান বেগম ও তার পরিবারের ৯ সদস্য। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনারাই গ্রামের মৃত আব্দুল গণির স্ত্রী রুপজান বেগম বৈধভাবে জায়গা কিনে নামজারি ও খারিজ সম্পন্ন করে সেখানে বসবাস করছেন। কিন্তু প্রতিবেশী আব্দুল মন্নাফ, আব্দুল বারী, আবরুজ মিয়া ও আল-আমীন উক্ত ভূমিতে নিজেদের শরীকানা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে কয়েক দফা স্থানীয় সালিশ বৈঠকেও কোনো সুরাহা হয়নি।
রুপজান বেগম অভিযোগ করে বলেন, যে টিনশেড ঘরটিতে আমরা থাকি তা অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বসবাস অনুপযোগী। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। সংস্কারের সব প্রস্তুতি থাকলেও প্রতিপক্ষের বাধার কারণে কাজ শুরু করতে পারছি না। শিশুসহ ৯ সদস্য নিয়ে চরম আতঙ্কে ও কষ্টে দিন কাটছে।
তার ছেলে আব্দুল নসাদ জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিরোধের জেরে তাদের বাড়ির পুকুরে বিষ ঢেলে চাষকৃত লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিধন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে গত ২২ সেপ্টেম্বর থানায় মামলা করা হয়েছে। তারা একদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে, অন্যদিকে ঘর সংস্কারেও বাধা দিয়ে আমাদের গৃহহীন করার ষড়যন্ত্র করছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মন্নাফ ও আব্দুল বারী বলেন, কে বা কারা বিষ দিয়ে মাছ নিধন করেছে তা আমরা জানি না। সম্পত্তিতে আমাদের অংশ রয়েছে, সেই দাবি তোলার কারণেই অন্যায়ভাবে আমাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।
পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, পারিবারিক এই জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বেশ কয়েকবার সালিশ করা হয়েছে, কিন্তু উভয়পক্ষের অসহযোগিতায় তা সম্ভব হয়নি। তবে বসতঘর সংস্কারে বাধা দেওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কমলগঞ্জ থানার এসআই রনি তালুকদার জানান, পুকুরে বিষ প্রয়োগের মামলায় অভিযুক্তরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। বসতঘর সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালে তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
