মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগে ২০ টন মাছ নিধন
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় একটি মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ২০ টন মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন খামারের মালিক ইলিয়াস মিয়া সরদার।
তাঁর দাবি, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা খামারের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। এতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ধামাই চা বাগানের নলডুড়ী বস্তি সংলগ্ন এলাকায় ইলিয়াস মিয়া সরদারের প্রায় ৫০ বিঘা জমির মৎস্য খামারে এ ঘটনা ঘটে।
সকালে খামারের পানিতে বিপুলসংখ্যক মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা খামারে ছুটে আসেন। তাঁদের ভাষ্য, ভোর থেকে প্রায় ২০ জন শ্রমিক খামার থেকে মরা মাছ তুলে গর্ত করে মাটিচাপা দিচ্ছিলেন। বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
খামারমালিক ইলিয়াস মিয়া সরদার দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও পুঁজি বিনিয়োগ করে তিনি এ খামার গড়ে তুলেছেন। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইলিয়াস মিয়া সরদারের ছেলে আব্দুর রহিম বলেন, ‘আগামীকাল মাছগুলো বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেছে। ছোটবেলা থেকে খামারে মাছ চাষ দেখছি। অক্সিজেনের অভাবে এভাবে এত মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা আগে দেখিনি। আমার ধারণা, বাবার সঙ্গে কারও শত্রুতার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।’
পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, খামারে মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। বিষ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জুড়ী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, ‘এইমাত্র ঘটনাটি জানতে পেরেছি। আমাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জুড়ী থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে। তদন্তে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, খামারে বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, বিষ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত খামারমালিকের পাশে দাঁড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
