মধুর হাঁড়ি দেখভাল করতে সিলেটে আলী আকবর
মধুর হাঁড়ি সিলেট। কোনোভাবেই যেনো সিলেটের মোহ কোনোভাবেই কাটাতে পারছেন না আলী আকবর। নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বগুড়া সিটি করপোরেশনে যোগদান করলেও তার তন=মন পড়ে আছে সিলেটে। মোহ কাটাতে না পেরে রোববার সিলেট আসেন। দিনভর সিলেট থেকে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমানের ফ্লাইটে সিলেট ছাড়েন। সংশ্লিষ্টরা একাধিক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, হঠাৎ করে কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে সিলেট ছাড়েন সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিময়মের অভিযোগ। এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করছে শ্যামল সিলেট। এমতাবস্থায় কাউকে না জানিয়ে কর্মস্থল ছাড়েন তিনি। যাবার বেলায় দায়িত্ব হস্তান্তর করে যাননি। সহকর্মীদের বলে গেছেন, তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর ফিরবেন। কিন্তু ওইদিন ফিরেননি। এসেছেন রোববারে (২৭ সেপ্টেম্বর) এবং দিনভর থেকে তার মধুর হাঁড়ির পার্টনারদের সাথে দেখা করে গেছেন।
এক কর্মস্থলে দুই দশক তথা প্রায় ২০ বছর সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) কাটিয়ে দিয়েছেন আলী আকবর। পদ বদলেছে, দায়িত্বের পরিধি বাড়লেও বদলায়নি কর্মস্থল।
অবশেষে ডেপুটেশন কাটাতে তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে বদলী হন। সিসিকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশৈলী থেকে পদাবনতি হয়ে (ডিমোশনে) নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন তিনি।
মূলত; তিনি পৌরসভার কর্মকর্তা। সেসুবাদে সিটি করপোরেশন ছাড়তে হতো। পৌর কর্মকর্তা হয়েই অবসরে যেতে হতো তাকে। ফলে নিজেই তদবির করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বগুড়া পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে যেতে হলো।
তবে বদলির পর ফেরার মিশন চালু করেন তিনি। তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে আবারো সিলেট সিটি করপোরেশনে ফিরতে মরিয়ে হয়ে ওঠেছেন।
সূত্র জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশনে ঠিকাদারদের সাথে গড়ে ওঠা সখ্যতা, কাজের হিস্যা, কমিশনসহ এখানের সাজানো অর্থের বাগান হাতছাড়া না করতেই তার ফেরার মিশন।
সূত্র জানায়, তার এই মিশনের মধ্যে রয়েছে ২০২৭ সালে অবসর গ্রহণের পর আবারো চুক্তিভিত্তিক সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী হওয়া। এই পথ খোলাসা করতেই পৌরসভা থেকে ডিমোশনে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা হয়ে পথ প্রসারিত করেছেন। খুব সূচারুভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন আওয়ামী লীগের আমলের দাপুটে এই কর্মকর্তা। এ জন্য কাউকে না জানিয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সিলেট ত্যাগ করেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সিটি করপোরেশনে যোগদান করেছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সিলেট সিটিতে তার স্থলে যাতে কাউকে পদায়ন না করা হয়, সে জন্য মন্ত্রণালয়ে তদবির চালিয়ে পথরুদ্ধ করে রেখেছেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে।
সিলেট ছাড়ার প্রাক্কালে সিসিকের ওয়েব সাইট থেকে নিজের নাম, পদবি সংবলিত ছবি সরিয়ে যান।
২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় নাটোর পৌরসভা থেকে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানের হাত ধরে ডেপুটেশনে সিটি করপোরশেনে আসেন আলী আকবর।
সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে পূর্ত শাখায় যোগদানের পর জীবনের সোনালী অধ্যায় সিলেটেই পার করেন।
তার সহকর্মীদের অনেকে জানান, তিনি সিলেট বিদ্বেষী ছিলেন। সিলেটের উন্নয়নে ছিল তার অনীহা, এমন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উন্নয়ন কাজ করা বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগেরও অনুসন্ধান করছে শ্যামল সিলেট।
ঠিকাদারদের অনেকে জানিয়েছেন, বিদায়ের আগে অনেক উন্নয়ন কাজের অর্থ ছাড় না দিয়ে তিনি ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাতে অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। অর্থ ছাড় না পাওয়ায় অনেক ঠিকাদার কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা করে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখেছেন তিনি।

