বছরের সর্বোচ্চ গরম, তীব্র লোডশেডিংয়ে নাকাল সিলেট
চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সোমবার। একই দিনে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে গরমের ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। প্রতি ঘন্টায়ও মিলেনি বিদ্যুৎ। পক্ষান্তরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সিলেটে লোডশেডিং আগের দিনের তুলনায় সোমবার কিছুটা কমেছে। সেইসাথে বন্ধ থাকা কুমারগাও বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালু হয়েছে।
সোমবার বিকেল ৩টায় সিলেটে ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এটি চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এবং বর্ষাকালে এটিই সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। সাগরের একটি বড় ধরণের সিস্টেমের কারণে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি আরও দু-একদিন থাকতে পারে।
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দিনে ও রাতে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, সিলেটের কুমারগাঁওয়ের ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তিন থেকে চার দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় সিলেট অঞ্চলে লো-ভোল্টেজ দেখা দিয়েছে। ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
পিডিবি সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় লো-ভোল্টেজের সমস্যা হচ্ছে। ভোল্টেজ স্বাভাবিক রাখতে লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে। তবে কেন্দ্রটির ত্রুটি সারিয়ে উৎপাদন কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন, রোববারের তুলনায় সোমবার লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। রোববার সন্ধ্যায় সিলেটে ৬০ মেঘাওয়াটের মতো লোডশেডিং ছিল। যা সোমবার সন্ধ্যায় লোডশেডিং ৪০ মেঘাওয়াটের মতো ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৫২ মেঘাওয়াট আর সরবরাহ মিলেছে ২১২ মেঘাওয়াট।
বন্ধ থাকা কুমারগাও বিদ্যুৎকেন্দ্র সোমবার সন্ধ্যায় চালু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি ৩/৪ দিন বন্ধ ছিল। ফলে সিলেটে লোডশেডিং বেড়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যা ৬টার পরে কুমারগাওয়ের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে। এখান থেকে ১০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এতে এখন লোডশেডিং কিছুটা কমবে, আশাবাদি তিনি।
এদিকে তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক ও পথচারীরা। দুপুরের পর নগরের সড়কে মানুষের চলাচলও কমে যায়।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার পানি সরবরাহ ও রান্নার কাজে সমস্যা হচ্ছে, জানিছেন শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে লাইনের পানি সরবরাহকালে একদিকে বিদ্যুৎ থাকলেও অন্যদিকে লোডশেডিং হওয়ায় বাসিন্দাদের অনেকে পানি সরবরাহ পান না। গত দুই সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎি বিভ্রাটের কারণে পানির তীব্র সমস্যা চলে আসছে। তিনি সিসিক ও বিদ্যুৎ বিভাগকে এই ব্যাপার গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানান।
নগরের বাসিন্দাদের অনেকে জানিয়েছেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ সংকট একসঙ্গে বাড়ায় সিলেটে জনজীবনে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, রোববার বিকেল ৩টায় সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৩ সেপ্টেম্বর ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং ২২ সেপ্টেম্বর ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

