কোম্পানীগঞ্জে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি বন্ধ, দলিল লেখকদের মানববন্ধন
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) ব্যবস্থার সার্ভার জটিলতা ও স্থায়ী অনুমোদনের অভাবে জমি রেজিস্ট্রি এবং নামজারি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনের দাবিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় দলিল লেখক সমিতি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার সুফল থেকে কোম্পানীগঞ্জের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে অনলাইন সিস্টেমে স্থায়ী অনুমোদন না থাকা এবং সার্ভার ও কোড জটিলতার কারণে খাজনা আদায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অথচ জমি কেনাবেচা বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অনলাইনে পরিশোধিত খাজনার দাখিলা (রসিদ) উপস্থাপন এখন বাধ্যতামূলক। সিস্টেম বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ খাজনা দিতে পারছেন না, যার ফলে দলিল রেজিস্ট্রিও সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া হালনাগাদ রসিদ না থাকায় নামজারির (মিউটেশন) শত শত আবেদন অনলাইনে আটকে রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শামস্ উদ্দিন শাহিন এবং সাধারণ সম্পাদক জাহান উদ্দিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
কোম্পানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার ফখরুল ইসলাম বলেন, অনলাইন খাজনার রসিদ ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি করার আইনি সুযোগ নেই। এই জটিলতায় সপ্তাহে যেখানে আগে ৫০-৬০টি দলিল রেজিস্ট্রি হতো, এখন তা ১০টির নিচে নেমে এসেছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো (উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ) ৩ শতাংশ কর থেকে বঞ্চিত হওয়ায় উন্নয়ন তহবিলে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, অনেক প্রবাসী স্বল্প সময়ের ছুটিতে এসেও জমি রেজিস্ট্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
কোম্পানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার জানান, বর্তমানে উপজেলার দুটি তহশিল অফিসই ভার্চুয়াল। এগুলোর কোনো স্থায়ী প্রশাসনিক অনুমোদন বা জনবল নেই।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার স্থায়ী অনুমোদন ও কোড সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে। সার্ভারের ত্রুটি নিরসনে কাজ চলছে এবং আশা করা যাচ্ছে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে।
ভুক্তভোগী জনসাধারণ ও দলিল লেখকদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকার যেন জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পায়।

