জগন্নাথপুরে জমিতে বিষ প্রয়োগ করে ৫০০ হাঁস নিধন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গন্ধর্ব্বপুর গ্রামে হাওরের জমিতে বিষ প্রয়োগের ফলে প্রায় ৫০০ হাঁস মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্বপুর হাওরের সাদ্দেক আলী বাড়ির পাশের জমিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিপুলসংখ্যক হাঁস মারা যাওয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন খামারি জালাল মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের বাসিন্দা ও হাঁস খামারি জালাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে তিনি তার হাঁসের পালটি পার্শ্ববর্তী হাওরের জমিতে চড়তে দেন। কিছুক্ষণ পরই হাঁসগুলো অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৫০০টি হাঁস মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
ভুক্তভোগী খামারি জালাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার হাঁসগুলো হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে জমিতে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে আমার প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এই হাঁসগুলো পালন করেছিলাম। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব এবং পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা ভেবে কুল পাচ্ছি না। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা জামরুল ইসলামসহ অনেকে জানান, হাওরের জমিতে এ ধরনের বিষ প্রয়োগের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি একদিকে যেমন খামারির অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, অন্যদিকে পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। তারা দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা খামারিকে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন। খামারি জালাল মিয়া জানিয়েছেন, তিনি ঘটনার বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শত্রুতা বা কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে সরকারি সহায়তা প্রদান এবং এই নিষ্ঠুরতার পেছনে যারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
