সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সেবার নামে দুর্ভোগ
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা ও স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শয্যা না পেয়ে শত শত অসুস্থ মানুষ হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও চলাচলের সরু গলিতে আশ্রয় নিয়েছেন। এর ওপর জেলায় হঠাৎ শিশুদের মাঝে হামের (Measles) প্রাদুর্ভাব চরম আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট (শনিবার) পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ৯১৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই ১১৭ জন। বিপুল সংখ্যক হাম আক্রান্ত শিশুকে হাসপাতালের ৮ তলায় আইসোলেশনে রাখা হলেও সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনদের অভিযোগের অন্ত নেই। শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকা এক রোগীর স্বজন সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে আসার পর থেকে এক পাতা প্যারাসিটামল ছাড়া সরকারি কোনো ওষুধ পাইনি। বাধ্য হয়ে চড়া দামে বাইরের ফার্মেসি থেকে সব ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তার ওপর স্যালাইন বা ইনজেকশনের জন্য নার্সদের ডাকলে তারা সহযোগিতা না করে উল্টো ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন।
হাম ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা সালমা বেগম অভিযোগ করেন, ৮ তলায় পর্যাপ্ত জায়গা নেই, নেই নার্সদের ন্যূনতম সহযোগিতা। বাচ্চার শ্বাসকষ্ট দেখে নার্সদের ডেকে আনতে গেলে তারা দায়িত্বহীন আচরণ করেন। সরকারি হাসপাতালে এসে যদি সবকিছুই বাইরে থেকে কিনতে হয়, তবে এই হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা কী?
রোগীর উপচে পড়া ভিড় ও সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহমেদ হোসেন বলেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, যা বাসাবাড়িতে দ্রুত ছড়ায়। বর্তমানে আমরা রোগীদের ৮ তলায় আইসোলেশনে রেখেছি এবং আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।
চিকিৎসক ও নার্স সংকট প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, রোগীর অনুপাতে আমাদের জনবল অত্যন্ত সীমিত। আমাদের চিকিৎসকেরা সাধ্যের বাইরে গিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তবে রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে এবং নতুন করে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া না হলে বর্তমান চিকিৎসাসেবার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে, হাসপাতালের এই নাজুক পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের স্বজনরা অবিলম্বে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নার্সদের বিরুদ্ধে ওঠা অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
