একদিনে সড়কে ঝরলো চার প্রাণ
সিলেট ও সুনামগঞ্জের পৃথক তিন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাদরাসাছাত্রী ও এক আনসার সদস্যসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ও সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৩জন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড় ১১টার দিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের চিকনাগুল গ্যাস ফিল্ডস এলাকায় একটি সিলেটগামী গেইটলক বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধলাইপাড় এলাকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত তাসনিম (১৫) মারা যায়। এ ঘটনায় আহত মোহাম্মদ আলী (৩০), সুমাইয়া আক্তার (২৬) ও কুলসুম বেগমকে (৫৫) উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর কিছু সময় পর, দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার তামাবিল হাইওয়ে থানা সংলগ্ন এলাকায় সিলেটগামী একটি হাইড্রলিক ট্রাক এক মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেল আরোহী হাসান মিয়া গুলাল (৩৫)। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হাসান গোয়াইনঘাট উপজেলার হাতিপাড়া গ্রামের ছয়ফুল্লার ছেলে। তামাবিল হাইওয়ে থানা-পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেছে।
এর আগে একই দিন সকাল ৮টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের শান্তিগঞ্জের ডাবর পয়েন্টসংলগ্ন সিচনী এলাকায় বেপরোয়া দূরপাল্লার বাসের ধাক্কায় মো. উজ্জ্বল হোসেন (২৫) নামের এক আনসার সদস্য নিহত হন। উজ্জ্বল মোটরসাইকেলযোগে মৌলভীবাজারে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। নিহত উজ্জ্বল জামালগঞ্জের ছোট ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং গাজীপুরে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়িতে আসা উজ্জ্বল স্থানীয় একটি রক্তদান সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন।
অপরদিকে একই দিন সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের জানিগাঁও এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে এক নারী নিহত ও অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো জব্ধ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

