নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সুনামগঞ্জের ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের চেলা নদীর শাখা ‘চৈলতার ঢালা’ থেকে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বাদী হয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত—২০১০)—এর ধারা ৬(ঙ), ১২ ও ১৫(১) অনুযায়ী ২৬ জনের নামোল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করে ছাতক থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা দায়ের হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন রহমতপুর গ্রামের মৃত হালিম উল্লাহর ছেলে ইসলাম উদ্দিন মেম্বার (৫২), মৃত হালিম উল্লাহর ছেলে জমির আলী (৩৮), করম আলীর ছেলে আশকর আলী (৪৮), কলমদর আলীর ছেলে রমজান আলী (৪০), আজাদ মিয়ার ছেলে হারিছ মিয়া (৩৬), আং রউচ্ছের ছেলে আব্দুর রউজ আলী (৪২), আজিজুর রহমানের ছেলে শাহ আলম (৩৮) ও আলী আহমদের ছেলে মাসুক মিয়া (৪০), আলমপুর গ্রামের সামাদের ছেলে খালিক মিয়া (৪০), আতিউর রহমানের ছেলে মাহমুদ হোসেন (৫০), সুনাফর আলীর ছেলে নজির আলী (৫৫), আলতাব আলীর ছেলে আতাউর রহমান (৪২), সামাদের ছেলে সিরাজ আলী (৪৫) ও এমদাদ আলীর ছেলে সমর আলী, কাজিরগাঁও গ্রামের মৃত সিকান্দর আলীর ছেলে কসমর আলী (৫৪), ইসলামপুর গ্রামের মৃত নজুল ইসলামের ছেলে আবুল বাশার টেইলার (৬০), ছনবাড়ি গ্রামের মৃত আহাদ আলীর ছেলে মো. রহমান আলী ও মৃত ইউছুফ আলীর ছেলে রমজান আলী, দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের জাহির আলীর ছেলে ধন মিয়া মেম্বার (৬৫), তালকাশ আলীর ছেলে বাবুল মিয়া (৫০), আওয়াল আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৫৫), অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তির ছেলে মিজান আলী, আব্দুল আউয়ালের ছেলে রোয়ার আলী (৫৪), মৃত আরব আলীর ছেলে আব্দুল মিয়া (৬৯), শারশীন পাড়া গ্রামের অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তির ছেলে হাজী রবিউল আউয়াল এবং পূর্ব সোনাপুর গ্রামের হাছিম উল্লাহর ছেলে মাসুক আলী (৪০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর, আলমপুর ও কাজিরগাঁও এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত চেলা নদীর শাখা ‘চৈলতার ঢালা’ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি, ১৬ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতেও বিষয়টি যাচাই করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে নদীর তীর, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত রাতের আঁধারে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
